Untitled Document
শিরোনাম : ||   উখিয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম নজির আহমদের নামে সড়কের নামকরণের দাবী      ||   রোহিঙ্গা যুবকের ভিডিও বার্তায় উত্তেজনা      ||   রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে অসহযোগিতার অভিযোগ ভিত্তিহীন      ||   রোহিঙ্গার ছুরিকাঘাতে রোহিঙ্গা যুবক নিহত      ||   উখিয়ায় গুলিবিদ্ধ যুবকের লাশ উদ্ধার      ||   রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের ওপর চাপ সহ্য করবে না চীন      ||   মিয়ানমারের কাছে নতি স্বীকার করেছে সরকার: ফখরুল      ||   কাবিন থেকে ‘কুমারী’ শব্দ উঠিয়ে দেওয়ার নির্দেশ      ||   রোহিঙ্গা শিশুদের অনিশ্চিত জীবন      ||   রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাঁচ শতাধিক মাদকের আস্তানা!      ||    রোহিঙ্গাদের গণহত্যা দিবস পালন: সমাবেশে স্বদেশে ফেরার আকুতি      ||   ঘুরে দেখুন কাজলের আন্দর মহল      ||   জামালপুরের ডিসি প্রত্যাহার হচ্ছেন      ||   রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলার ২ বছর আজ      ||   রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রতিদিন গড়ে ৯০শিশুর জন্ম!     
প্রকাশ: 2019-08-18     ভয়েস প্রতিবেদক, টেকনাফ এক্সক্লুসিভ

রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে মিয়ানমারের একটি দল ঢাকায় এসেছে। আর ২২ আগস্ট আন্তর্জাতিক একটি সংবাদ সংস্থায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হতে পারে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় আবারও নড়াচড়া শুরু হয়েছে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে। সরেজমিন দেখা গেছে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য গতবছর তৈরি করা টেকনাফের নাফ নদীর সীমান্তে অবস্থিত কেরণতলী ঘাটটিতে আবারও সংস্কারের কাজ চলছে। এখানকার বাতাসে ফিসফাস, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হতে পারে সহসাই। তবে রোহিঙ্গারা এখনও জানেন না, কীভাবে কোন কোন শর্তে তাদের স্বদেশে ফিরিয়ে নিতে চায় মিয়ানমার।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক কোনও বক্তব্য বা পদক্ষেপের বিষয়ে এখনও কোনও তথ্য জানা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন (আরআরআরসি)। এই কমিশনের কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালামের কাছে ২২ আগস্ট রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কখন প্রত্যাবাসন শুরু হবে সে বিষয়ে এখনও অবগত নই।’

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশন (ইউএনএইচসিআর) আরআরআরসি-এর পাশাপাশি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি দেখভাল করছে। এজন্য দেশে ফিরতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিবেদন তৈরি করে সরকারের কাছে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে তাদের। তবে বিষয়টি নিয়ে সংস্থাটির কোনও কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হননি।

            

এদিকে, শনিবার (১৭ আগস্ট) বিকালে টেকনাফ কেরণতলী প্রত্যাবাসন ঘাট পরিদর্শনে গিয়ে সেখানে কয়েকজন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা গেছে। এসময় প্রত্যাবাসন নিয়ে কাজ করা একটি দলকেও প্রত্যাবাসন কেন্দ্রের বিভিন্ন স্থান ও কক্ষ ঘুরে দেখতে দেখা যায়। তবে গণমাধ্যমকে এড়িয়ে যান তারা।

তবে প্রত্যাবাসন ঘাটে দায়িত্বে থাকা প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের প্রতিনিধি মোহাম্মদ শহীদুল হাসান জানান, এই ঘাট দিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হওয়ার কথা রয়েছে। তাই কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এখানে কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন কাজকর্ম চলছে।

প্রত্যাবাসন ঘাটে দায়িত্বরত ১৬ আনসার ব্যাটালিয়নের হাবিলদার মোহাম্মদ আইনুল হক বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ঘাটে কয়েকদিন ধরে কাজ চলছে। তাদের আমরা সহযোগিতা করছি। শুনেছি, কয়েকদিনের মধ্যে এই ঘাট দিয়ে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফেরত যাবে।’

এরপর পাশের নয়াপাড়া শালবন রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করে দেখা গেছে, প্রত্যাবাসনের বিষয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। এ ছাড়া, এই রোহিঙ্গা শিবিরের সিআইসি কার্যালয়ের পাশে ‘প্রত্যাবাসনের তালিকায়’ নাম থাকা রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য তড়িঘড়িভাবে প্লাস্টিকের ছোট ছোট ঘর তৈরি করে ঘেরা দিতে দেখা গেছে। এখানেও বেশকিছু রোহিঙ্গা শ্রমিক কাজ করছিলেন। এর মধ্যে কথা হয় আবদুল করিম নামে এক শ্রমিকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারে ফেরত যাবে এমন রোহিঙ্গাদের জন্য এসব তৈরি করা হচ্ছে। আমরা শুনেছি, কিছু রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর কথা রয়েছে।’

এই শিবিরের চেয়ারম্যান রমিদা বেগম বলেন, ‘শুনেছি, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হবে। তবে হঠাৎ করে কারও সঙ্গে কথা বললে এই প্রত্যাবাসন নিয়ে রোহিঙ্গাদের মাঝে হতাশা বিরাজ করে। কেননা, শিবিরের সিআইসি কার্যালয়ে পাশে এনজিওরা তাড়াহুড়াভাবে ছোট ছোট ঘর তৈরি করছে। এ নিয়ে রোহিঙ্গাদের মাঝে কানাঘুষা চলছে। ’

কেরণতলী ঘাট (ছবি– প্রতিনিধি)

টেকনাফের জাদিমুড়া ২৭ নম্বর রোহিঙ্গা শিবিরের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হোক, সেটি আমরা চাই। তবে রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করে নিজ দেশের নাগরিকত্ব দিলে আমরা ফেরত যেতে প্রস্তুত। হঠাৎ করে প্রত্যাবাসনের খবরে রোহিঙ্গারা উদ্বিগ্ন। কীভাবে কী হচ্ছে তা আমরা বুঝতে পারছি না।’

             

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে ২৫ আগস্টে কোরবানি ঈদের মাত্র কয়েকদিন আগে রাখাইনের ৩০টি নিরাপত্তা চৌকিতে একযোগে হামলার ঘটনা ঘটে। প্রতিক্রিয়ায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক নিপীড়ন শুরু করে। ফলে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। পুরনোসহ উখিয়া-টেকনাফের ৩০টি শিবিরে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। তবে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, উখিয়া-টেকনাফে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৭। এর মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। জাতিগত নিধন ও গণহত্যার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হয়। এ চুক্তি অনুযায়ী ১৫ নভেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার তারিখ নির্ধারণ করলেও শেষ সময়ে এসে বেঁকে বসে রোহিঙ্গারা। নিরাপত্তাহীনতার উদ্বেগ, সংঘটিত হত্যাকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের কোনও প্রতিশ্রুতি না থাকা, নিজ গ্রামে ফিরে যেতে না দিয়ে বদ্ধ শিবিরে আটকে রাখার আশঙ্কা, নাগরিকত্ব না দেওয়া ইত্যাদি কারণে মিয়ানমারে ফিরে যেতে চাননি উদ্বাস্তু রোহিঙ্গারা। এ কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াও শুরু করা যায়নি। তবে সেসময়েই উখিয়ার ঘুমধুমের প্রত্যাবাসন ঘাটের পাশাপাশি টেকনাফের নাফ নদী তীরের এই কেরণতলী (নয়াপাড়া) প্রত্যাবাসন ঘাটটি নির্মাণ হয়েছিল। এর মধ্যে টেকনাফের প্রত্যাবাসন ঘাটে প্যারাবনের ভেতর দিয়ে লম্বা কাঠের জেটি, ৩৩টি সেমি-টিনের থাকার ঘর, চারটি শৌচাগার রয়েছে। সেখানে ১৬ আনসার ব্যাটালিয়ন ক্যাম্পের সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন। সূত্র: বাংলাট্রিবিউন।

আআ/


এক্সক্লুসিভ
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: কেরণতলী ও ঘুমধুম ঘাটে চলছে সংস্কারের কাজ

রোহিঙ্গাদের দ্বিতীয় বছরের ঈদুল আজহা: কোরবানির দিয়েছে অনেকে

রোহিঙ্গাদের কারণে গত ২ বছরে ক্ষতি ৬২০০একর বনাঞ্চল

জেলায় ডেঙ্গু নিয়ে আতংকিত না হওয়ার পরামর্শ চিকিৎসকদের

বরগুনায় রিফাত হত্যাকান্ড: নেপথ্যে কারা

রোহিঙ্গা ক্যা্ম্পে অপরাধ দমনে তৎপর নেতারা

রাতে এমপি শম্ভুর অফিসে মিন্নির আইনজীবী!

পেঁয়াজের দাম কমেছে, সবজি-মাছের মূল্য চড়া

মিন্নি বললেন ‘আমি মানসিক নিপীড়নে বিধ্বস্ত’

কোরবানির গরু মোটা হচ্ছে ক্ষতিকর ওষুধে

 

উপদেষ্টা সম্পাদক: আবু তাহের
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
প্রকাশক: আবদুল আজিজ

 

কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (২য় তলা),
শহীন সরণি (সার্কিট হাউস রোড), কক্সবাজার।
ফোন:
০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩।


ইমেইল :

news.coxsbazarvoice@gmail.com
  Copyright © Coxsbazarvoice 2019-2020, Developde by JM IT SOLUTION