Today is  
 
Untitled Document
শিরোনাম : ||   আইসিওই'র প্রতিবেদন: রাখাইনে যুদ্ধাপরাধ সংগঠিত হয়েছে      ||   বাংলাদেশের নারীরা থাইল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেয়েছে      ||   ইরাকের মার্কিন দূতাবাসে ৩ বারের মত ইরানের রকেট হামলা      ||   হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রকাশ: দেশে ভোটার সংখ্যা ১১ কোটি      ||   রোহিঙ্গাদের অনিশ্চিত প্রত্যাবাসন: চীনের ব্যর্থ প্রচেষ্টা      ||   সমুদ্রপথে মালয়েশিয়াগামী ২৩ রোহিঙ্গা নাগরিক উদ্ধার      ||   পেকুয়ায় স্বামীর পরকিয়া সইতে না পেরে স্ত্রীর আত্মহত্যা!      ||   নাইক্ষ্যংছড়ির আফসানা ইসলাম রুমির সহকারী জজ পদে নিয়োগ পেলেন      ||   রোহিঙ্গাদের নিরাপদ পরিবেশে ফিরতে জাতিসংঘ কাজ করছে- ইয়াং হি লি      ||   জেলায় জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন সার্ভার চালুকরণে জনসচেতনতামুলক সভা      ||   আত্মসমর্পনকারি ১০১জন ইয়াবা কারবারির বিরুদ্ধে আদালতে পুলিশের চার্জশীট      ||   মহেশখালীতে অস্ত্রকারীগর গ্রেফতার      ||   মহেশখালীতে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন: আটক ৩      ||   সিপিবির সমাবেশে হামলা মামলায় ১০ জনের মৃত্যুদণ্ডদেশ      ||   চিত্র নায়িকা রত্নার ক্ষমা প্রার্থনা     
প্রকাশ: 2020-01-21     আফরোজা সোমা কলাম

বাংলাদেশে ধর্ষণ নৈমিত্তিক ঘটনা। মূলত নারীরাই এর প্রধান শিকার। গণমাধ্যমে প্রতিনিয়তই ধর্ষণ ও যৌন-নিপীড়নের খবর প্রকাশ হয়। সমাজে কেন মহামারীর মতন ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটছে? কেন এই ধরনের অপরাধকে ঠেকানো যাচ্ছে না এগুলো অত্যন্ত জরুরি আলাপ। কিন্তু এই লেখায় সেই আলাপে যাব না। এই লেখায় মনোযোগ নিবদ্ধ থাকবে যৌন নিপীড়নের ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমে যেসব সংবাদ প্রকাশ হয় সেগুলোতে ব্যবহৃত ভাষার মধ্যে। অর্থাৎ এই লেখার মূল বিষয় যৌন নিপীড়ন নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে ব্যবহৃত ভাষার অসংগতি খতিয়ে দেখা।

আজকের এই কলামটি লেখার বছরখানেক আগে একই বিষয়ে আরেকটি অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ লেখা লিখেছিলাম। সেটি অন্যত্র প্রকাশ হয়েছিল। সেই নিবন্ধটি লেখার সময় বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি পঠিত দৈনিক পত্রিকা প্রথম আলোতে প্রকাশিত যৌন-নিপীড়ন বিষয়ক সংবাদগুলোর মধ্য থেকে অল্প কিছু নমুনা চয়ন করে সেগুলোর ভাষাকে খতিয়ে দেখা হয়। চয়নকৃত সংবাদগুলো প্রকাশ হয়েছিল ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে।

বখাটে, শ্লীলতাহানি ও ইভটিজিং : ভাষার অস্পষ্টতা

ধর্ষণ ও যৌন-নিপীড়ন বিষয়ক যে সংবাদগুলোকে বিশ্লেষণ করা হয়েছিল সেগুলোর মধ্যে তিনটি শব্দের বহুল ব্যবহার পাওয়া যায়। শব্দগুলো হলো ‘বখাটে’, ‘শ্লীলতাহানি’ ও ‘ইভটিজিং’। যৌন-নিপীড়ক ব্যক্তি যিনি কথায় বা ইশারা-ইঙ্গিতে বা গায়ে হাত দিয়ে বা ধর্ষণের মাধ্যমে নারীকে যৌন হয়রানি করছেন তার পরিচয় হিসেবে সংবাদগুলোতে ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষণ বাচক শব্দ ‘বখাটে’। আর যৌন-নিপীড়নের শিকার হওয়া নারীর যৌন-নির্যাতনের ঘটনাকে বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে ‘শ্লীলতাহানি’। এছাড়া নারীর ওপরে ঘটা যৌন-হয়রানিকে বোঝাতে ‘ইভটিজিং’ শব্দটিও ব্যবহৃত হয়েছে। প্রথম আলো একা নয়। বাংলাদেশে বাংলায় প্রকাশিত প্রায় সব পত্রিকাতেই, যৌন-হয়রানি/নিপীড়নের সংবাদে ঘুরেফিরে এই তিনটি শব্দ আসে। অতি ব্যবহৃত এই শব্দগুলোর আভিধানিক অর্থটা একবার দেখে নেওয়া যাক।  

বখাটে কে? শৈলেন্দ্র বিশ্বাস সংকলিত ও শ্রী দীনেশচন্দ্র ভট্টাচার্য সংশোধিত এবং সাহিত্য সংসদ, কলিকাতা  থেকে ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত সংসদ বাঙ্গালা অভিধান অনুযায়ী ‘বখা’ শব্দের অর্থ হচ্ছে কুসংসর্গে নষ্ট হওয়া বা দুশ্চরিত্র হওয়া বা ফাজিল বা বাচাল (বিশ্বাস, ১৯৮৭)। যেমন ‘ছেলেটি বখে গেছে’। এই বাক্য দিয়ে ছেলেটির পড়ায় মন না থাকা, পড়া নষ্ট করে খেলার মাঠে দিনমান পড়ে থাকা থেকে শুরু করে স্কুল ফাঁকি দিয়ে সিনেমা দেখতে যাওয়ার মতন অপরাধকেও বোঝানো যায়। কিন্তু প্রথম আলোর প্রতিবেদনে যে ব্যক্তি ইট দিয়ে একটি মেয়ের মাথা ও মুখ থেঁতলে দিয়ে হত্যা করেছে তেমন গুরুতর ঘটনার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকেও ‘বখাটে’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

শ্লীলতাহানি মানে কী? নরেন বিশ্বাস সম্পাদিত বাংলা একাডেমি প্রকাশিত বাঙলা উচ্চারণ অভিধান অনুযায়ী, শ্লীলতা অর্থ শিষ্টতা, ভদ্রতা, ভব্যতা ও সম্ভ্রম।  আর শ্লীলতাহানি মানে ‘নারীর সম্ভ্রমহানি’। (বিশ্বাস, ২০১২)। তাহলে এখন জানা দরকার ‘সম্ভ্রম’ মানে কী? অভিধান বলছে, সম্ভ্রম অর্থ মর্যাদা, সম্মান, গৌরব, মান ও সমাদর। (বিশ্বাস, ২০১২)।  অর্থাৎ যৌন-সন্ত্রাস বা নিপীড়নের ঘটনা তুলে ধরতে গিয়ে শ্লীলতাহানি শব্দটির ব্যবহার অস্পষ্টতা তৈরি করে।

আর ‘ইভটিজিং’ ইংরেজি শব্দ। তবে, ইংরেজি-প্রধান দেশগুলোতে এই শব্দের চল নেই। এটি বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয় বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানসহ কেবল দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশে। ইভটিজিং শব্দটি দিয়ে এই অঞ্চলে ‘সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট’ ও ‘সেক্সুয়াল এসল্ট’ বা যে কোনো প্রকারের অনাকাক্সিক্ষত যৌন স্পর্শ, যৌন-হয়রানি ও যৌন-আক্রমণকে বোঝানো হয়। অথচ ইংরেজি শব্দ ‘টিজিং’-এর অর্থ হচ্ছে কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে ঠাট্টা-মস্করা করা বা ফাজলামো করা। সেই টিজিং রঙ্গ-রস থেকে শুরু করে বেশ খানিকটা সিরিয়াস বা গুরুতর দিকেও মোড় নিতে পারে বটে। অনলাইন অক্সফোর্ড ডিকশনারি অন্তত তেমনটিই বলছে। ‘ইভটিজিং’, ‘বখাটে’ ও ‘শ্লীলতাহানি’র পাশাপাশি ‘উত্ত্যক্ত’ ও ‘লাঞ্ছিত’ শব্দ দু’টোও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতে দেখা যায়।  কিন্তু উত্ত্যক্ত ও লাঞ্ছিত শব্দের অর্থ বিস্তৃত। সংসদ বাঙ্গালা অভিধান জানাচ্ছে, লাঞ্ছিত অর্থ হলো অপমানিত, অপদস্থ, উৎপীড়িত ইত্যাদি। আর উত্ত্যক্ত শব্দের অর্থ হচ্ছে অত্যন্ত বিরক্ত, ব্যতিব্যস্ত, অস্থির (বিশ্বাস, ১৯৮৭)।

মানুষকে উত্ত্যক্ত করার নানান উপায় আছে। গাঁও-গেরামে এক পড়শী আরেক পড়শীকে শত্রুতাবশত উত্ত্যক্ত করতে গিয়ে রাতের অন্ধকারে পড়শী বাড়ির টিনের চালে ঢিল মারে, ফুল বাগানের গাছ ও ফুল ছিঁড়ে ফেলে, লাউ ও শিম গাছের গোড়া কেটে দেয় এবং পুকুরের পানিতে বিষ মিশিয়ে দিয়ে মাছ মেরে ফেলে এমন ঘটনাও ঘটে। এছাড়া বাড়ির বউ-ঝিদের ক্রমাগত শারীরিক-মানসিক নির্যাতন করেও উত্ত্যক্ত করার ঘটনা ঘটতে পারে। অর্থাৎ কাউকে বিরক্ত বা উত্ত্যক্ত করতে চাইলে নানাভাবেই করা যায়। যৌন-নিপীড়ন বা যৌন হয়রানিই ‘উত্ত্যক্ত’ করার একমাত্র উপায় নয়। ফলে, উত্ত্যক্তকারী মাত্রই যৌন-হয়রানিকারী ব্যক্তিকে নির্দেশ করে না।  আর ‘লাঞ্ছিত’ শব্দটি দিয়ে কোনো সম্মানিত ব্যক্তির সঙ্গে অপমানজনকভাবে রূঢ় ব্যবহার করা থেকে শুরু করে চড়-থাপ্পড়-ঘুষি মারাকেও বোঝানো যেতে পারে।  ফলে, ‘লাঞ্ছিত’ শব্দটি দিয়েও কোনো ভাবেই কেবল যৌন-হয়রানির ঘটনাকেই নির্দেশ করে না।

২০১৫ সালে পহেলা বৈশাখের উৎসবের সময় টিএসসিতে নারীদের ওপর যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।  সেই ঘটনাটিকেও গণমাধ্যমের অনেক খবরে ‘শ্লীলতাহানি’ বলে উল্লেখ করা হয়। এই বিষয়ে বিবিসি বাংলার খবরেও ‘শ্লীলতাহানি’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। ঘটনার এক ফলোআপ সংবাদে ২০১৬ সালের ২০ ডিসেম্বরে বিবিসি শিরোনাম করে ‘টিএসসিতে পহেলা বৈশাখের শ্লীলতাহানির ঘটনায় একজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট’। এই সংবাদেরই একটি অংশে রয়েছে ‘লাঞ্ছিত’ শব্দটিও। সেখানে বলা হয়েছে, ‘২০১৫ সালের ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ উদযাপনের সন্ধ্যায় টিএসসির পাশে সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানের গেটে ভিড়ের মধ্যে একদল যুবক নারীদের লাঞ্ছিত করে’।

তবে, বিবিসি এটিকে নারীদের লাঞ্ছনা হিসেবে উল্লেখ করলেও অনলাইন পত্রিকা বিডিনিউজ২৪ডটকম বিষয়টিকে উল্লেখ করেছে ‘হামলা’ হিসেবে। ‘বর্ষবরণ উৎসবে যৌন হয়রানি’ শিরোনামে প্রকাশিত খবরে বিডিনিউজ লিখেছে : ‘নারীদের ওপর এই হামলা ঠেকাতে গিয়ে একদল যুবকের হামলায় হাত ভেঙেছেন ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি’। বিডিনিউজের সংবাদেও ‘শ্লীলতাহানি’ শব্দটি আছে।  তবে, এটিকে তারা রেখেছে ঊর্ধ্বকমার ভেতরে। যার অর্থ, এটি তাদের ভাষা নয়।

ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজেও মনে করি এটি নারীর ওপর পুরুষের হামলা। যৌন এই আক্রমণের কারণে আক্রান্ত নারী ‘লাঞ্ছিত’ হলেন কি-না বা হলে কতটুকু হলেন সেটি নিয়েও নিশ্চয়ই আলাপ হতে পারে।  তবে, ‘হামলা’ শব্দটি আক্রমণকারীর দিকে যেভাবে অঙ্গুলি নির্দেশ করে, ‘লাঞ্ছিত’ শব্দটি সেভাবে করে না।

ভাষার অস্পষ্টতা কী করে দূর হতে পারে?

ভাষার অস্পষ্টতা দূর করতে হলে ধর্ষণ ও যৌন-হয়রানি ঘটনা বিষয়ে চিন্তার অস্পষ্টতা দূর করতে হবে।  ‘শ্লীলতাহানি’ বা ‘উত্ত্যক্ত’ বা ‘ইভটিজিং’ ধোঁয়াশাচ্ছন্ন শব্দ। কোনো নারীর পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় বিড়বিড় করে যদি কোনো পুরুষ মেয়েটিকে যৌন-ইঙ্গিত দিয়ে কথা বলে বা মেয়েটির শরীরের আপত্তিকরভাবে ছুঁয়ে দেয় তাহলে সেটি কি ‘উত্ত্যক্ত’ করার মধ্যে পড়বে নাকি পড়বে ‘ইভটিজিং’ বা ‘শ্লীলতাহানি’র মধ্যে? যে ব্যক্তি এই কাণ্ডটি ঘটাবেন তিনি কি ‘বখাটে’ নাকি ‘উত্ত্যক্তকারী’ নাকি ‘ইভটিজার’ বলে বিবেচিত হবে?

এই অস্পষ্টতা তৈরিকারী শব্দাবলির ব্যবহার ত্যাগ করতে হবে। অভিযোগ যদি হয় ধর্ষণ-প্রচেষ্টা তাহলে সেটিকে ‘শ্লীলতাহানি’ লেখার দরকার নেই। লিখতে হবে ধর্ষণ-প্রচেষ্টা। অভিযুক্ত পুরুষের বিরুদ্ধে যদি নারীর শরীরে যৌন উদ্দেশ্যে অনাকাক্সিক্ষতভাবে ছুঁয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাহলে তাকে ‘বখাটে’ বা ‘উত্ত্যক্তকারী’ বা ‘ইভটিজার’ বলার দরকার নেই। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যদি এই জাতীয় আরও অভিযোগ থাকে তাহলেও তাকে ‘বখাটে’ লেখার দরকার নেই। যৌন-হয়রানির অভিযোগ ওঠা ব্যক্তির ক্ষেত্রে লেখা যেতে পারে, এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে যৌন-হয়রানি/নির্যাতন/নিপীড়নের এরকম এক/একাধিক আরও অভিযোগ রয়েছে। অর্থাৎ যৌন-হয়রানিকারী ব্যক্তি ‘বখা’ কি বখা নয়, সেই ‘বিচার’ করে একটি বিশেষণ বাচক শব্দ সংবাদের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া সাংবাদিকের কাজ নয়। কারণ সমাজের চোখে ‘বখে যাওয়া নয়’ এমন বহু ব্যক্তির বিরুদ্ধেও যৌন-হয়রানির অভিযোগ ওঠে। হ্যাশ ট্যাগ মিটু আন্দোলনের বরাতে বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীতে এরকম অনেক ঘটনা প্রকাশিতও হয়েছে। ফলে, যৌন-নিপীড়নকারী মাত্রই ‘বখাটে’ এটি ভাবার কারণ নেই।

তাছাড়া, সাংবাদিকতার প্রথম পাঠেই শেখানো হয় যে, সংবাদে অর্থাৎ হার্ড-নিউজে কোনো বিশেষণ বাচক বা দোষ-গুণ বাচক শব্দ সাধারণত ব্যবহার করা যাবে না। এই নিয়ম গণমাধ্যমের রাজনীতি বা অন্যান্য খবরে মোটামুটি অনুসরণ করা হলেও ধর্ষণ, যৌন-হয়রানি ও যৌন-নিপীড়নের সংবাদের ক্ষেত্রে তেমন একটা প্রয়োগ হয় না। বরং সংবাদগুলোতে যৌন-হয়রানিকারী ব্যক্তিকে অবলীলায় ‘বখাটে’ বলে ‘লেবেল’ এঁটে দেওয়া হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তির চারিত্রিক সনদপত্র দেওয়া সাংবাদিকের কাজ নয়। তার কাজ হলো সত্য তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার প্রতিবেদন তৈরি করা। প্রতিবেদন তৈরি করার সময় সাংবাদিককে হতে হয় নির্মোহ। এটিই সাংবাদিকতার চিরায়ত শিক্ষা। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দরকার।  ‘ভিকটিম’ ও ‘পারপিট্রেটর’ বা নির্যাতনের শিকার ও নিপীড়নের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির চারিত্রিক সনদ লেখার দায়িত্ব থেকে সাংবাদিকদের মুক্তি দরকার। আর পাঠকের মুক্তি দরকার, বিশেষণ বাচক শব্দে লিখিত অনির্মোহ সংবাদকে নির্মোহ ভেবে পাঠ করার প্রতারণা থেকে।

সংবাদ শুধু একটি ঘটনার বার্তাই দেয় না। ঘটনাটিকে কোন দৃষ্টিতে দেখতে হবে, সেই মনোভঙ্গিটাও তৈরি করে দেয়।  গণমাধ্যমের দুনিয়ায় ‘ফ্রেমিং’ বলে একটি ধারণা আছে। কোন শব্দকে কীভাবে ব্যবহার করা হলো তার ওপরেই অনেক অর্থ নির্ভর করে। শব্দের ব্যবহার মানুষের চিন্তায় প্রভাব ফেলে। তাই যৌন হয়রানির ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তির বাস্তবতাকে ‘শ্লীলতাহানি’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে নাকি ‘যৌন হামলা বা আক্রমণের শিকার’ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে তা-ও জরুরি প্রসঙ্গ। ধর্ষণ-মহামারী বন্ধ করতে হলে সমাজের মনোভঙ্গি পাল্টাতে হবে। সংবাদের ভাষা সমাজের মনোভঙ্গি পরিবর্তনে সহায়ক অস্ত্র। তাই, এই অস্ত্রে শান দেওয়া দরকার।

লেখক: কবি ও সহকারী অধ্যাপক

আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ

afroja.shoma@gmail.com


কলাম
যৌন হয়রানির সংবাদ ও গণমাধ্যমের ভাষা

গণমাধ্যমের বিপদ

ইভিএম নিয়ে বিএনপি’র আপত্তি কেন!

আমরা কি সভ্য সমাজে বাস করছি?

ক্রসফায়ার নয়, ধর্ষকের ফাঁসি চাই

দিনদুপুরে নিরপেক্ষ হোক সিটি ভোট

হৃদয় যখন আকাশের মতো বিশাল

জনকের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: বিজয়ের পরিপূর্ণতা অর্জন

সোলাইমানির হত্যাকাণ্ড আর ট্রাম্পের নির্বাচন

এই শহর নিরাপদ হবে কবে?

 

উপদেষ্টা সম্পাদক: আবু তাহের
সম্পাদক: বিশ্বজিত সেন
প্রকাশক: আবদুল আজিজ

 

কক্সবাজার প্রেসক্লাব ভবন (২য় তলা),
শহীদ সরণি (সার্কিট হাউস রোড), কক্সবাজার।
ফোন:
০১৮১৮-৭৬৬৮৫৫, ০১৫৫৮-৫৭৮৫২৩।


ইমেইল :

news.coxsbazarvoice@gmail.com
  Copyright © Coxsbazarvoice 2019-2020, Developde by JM IT SOLUTION